Main Menu

৭১ বছর বয়স তবুও বয়স্ক/বিধবা  ভাতা পান না কবিজন নেসা

একে তো দুস্থ বিধবা তার মধ্যে বয়স্ক ব্যক্তি। দুই ক্ষেত্রেই তিনি সরকারি ভাতা ও সুযোগ সুবিধা পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু পান না একটিও। তিনি কুড়িগ্রাম উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের ফকিরপাড়া হাতিয়া ভবেশ গ্রামের ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা কবিজন নেসা। জাতীয় সনদ অনুযায়ী তার জন্ম ১৬ আগষ্ট ১৯৪৮ সাল।
৭২ বছরের বৃদ্ধা কবিজন নেসা  মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর স্বামী নটকু শেখকে হারান ৪৯ বছর আগে। দিনমজুর স্বামীর আয়েই চলত সংসার। সঞ্চয় বলতে কিছুই ছিল না তাঁর।
উপায় না পেয়ে তিন সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে অন্যের বাড়িতে কাজ নেন কবিজন নেসা। সকালে সন্তানদের ঘরে রেখেই কাজে বের হতে হতো। সারা দিন কাজ করে বিকেলে খাবার নিয়ে ঘরে ফিরে সন্তানদের খাওয়াতেন। এভাবে খেয়ে না খেয়ে সন্তানদেরকে বড় করে বাড়ীর পাশে মেয়েকে বিয়ে দেন। ছেলেকে বিয়ে করান। ছেলের অভাবের সংসারে জীবন বাচাঁতে ফেরি করে গ্রামে গ্রামে রুটি বিক্রি করতেন একসময়।
বয়সের ভারে এখন কবিজন নেসা (৭২) লাঠিতে ভর দিয়ে হাঁটেন। হাঁটাচলা করতে পারলেও তেমন কোনো কাজ করতে পারেন না। চোখে দেখেন কম, আবার কানেও শুনেন না। শরীরে আগের মতো শক্তি নেই। শরীরে বাসা বেঁধেছে বাধর্ক্যজনিত নানা অসুখ। কিন্তু ওষুধ কেনার সামর্থ্যও নেই। অনাহারে-অধার্হারে মেয়ের সংসারে দিন কাটছে তার। মেয়ের অভাবের সংসারে খেতে হচ্ছে আর থাকতে হচ্ছে দিনমুজুর ছেলের ঘরের এককোনে।
১৩মার্চ  কথা হয় কবিজন নেসা ও তার মেয়ের সঙ্গে। তার মেয়ে বলেন, আমারও অভাবের সংসার তবুও মাকে খাওয়াতে হয়। একাধিকবার মায়ের বয়স্ক বা বিধবাভাতার জন্য চেয়ারম্যান মেম্বারদের কাছে আবেদন করেছেন। কিন্তু কোনো কার্ড পাননি। থাকার জন্য একটি ঘর এবং  একটি ভাতা  কার্ড পেলে তার মা উপকৃত হবেন বলে জানান তিনি।
কবিজন নেসা তিনি কানে কম শুনতে পান। জোরে আওয়াজ করে বয়স্ক ভাতা পান কি না জানতে চাইলে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, কে তাকে ভাতা দেবে। এখন তো চলে যাওয়ার সময় হয়ে গেছে। ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বারের কাছে বয়স্কভাতার জন্য কত আকুতি মিনতি করে ভাতা পাইনি।
কবিজন নেসা জানতে পেরেছেন উলিপুরের এমপি বৃদ্ধদের জন্য কাজ করেন। তাই তিনি আকুতি জানিয়েছেন তাঁর জন্য এমপি যেন থাকার জন্য একটি ঘর এবং বয়স্ক ভাতার কার্ডের ব্যবস্থা করে দেন।
কবিজন নেসা বলেন, এখন গায়ে শক্তি পাই না। মানুষ আর কামে লয় না। চোখে-মুখে অন্ধকার দেখে আমি বিভিন্ন মেম্বার চেয়ারম্যানের কাছে গেছি। কেউ আমার জন্য কিছু করে নাই। আমি খুবই অসহায়। এমপি  যদি আমার জন্য একটি থাকার জন্য ঘর একটি বষস্ক কার্ডের ব্যবস্থা করে দেন, তবে আমি শান্তি পামু। দোয়া করুম তাঁর জন্য।’





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *