Main Menu

সুস্থধারার বিনোদন লোকসংগীতকে বাচাঁতে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন “শিল্পী কল্যান চন্দ্র শীল”

মোঃওসমান গনিঃ

গান মানসিক প্রশান্তির একটা উৎস। পেটের ক্ষুধার সাথে সাথে মানুষের মনেরও একটা ক্ষুধা থেকে যায়। আর এই গানই মানুষের মনের খোরাক যোগায়। কিন্তু ইদানিং কালে কিছু কিছু শিল্পী সংগীতের নামে যা শুরু করেছে তাতে খুব তাড়াতাড়িই মানুষের মনের ক্ষুধায়, অরুচি হওয়া খুব একটা দূরে বলে মনে হচ্ছে না।

পূর্বে গ্রামীণ মানুষের মনের খোরাক মিটাতে আয়োজন করা হতো সুস্থ্যধারার বিনোদন, লোকসংস্কৃতি, লোকগান, পালাগান, ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালী, পল্লীগীতি ইত্যাদি।

সময়ের আবর্তন ও বিবর্তনে অপসংস্কৃতির যাতাকলে পিষ্ট হয়ে বিলুপ্তির পথেই সুস্থ্যধারার বিনোদন লোকসংগীত।

এ সব গান উঠে আসে মানুষের প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্য থেকে। ভাওয়াইয়া গানের জন্মও একই ভাবে। মৈষালি জীবনের বিরহ-যন্ত্রণা, ঘরসংসার ছেড়ে আসার যন্ত্রণা অনূদিত হয়েছে এই ঘরার গানের সুরে-কথায়। এলাকা ভেদে ভাওয়াইয়া গানের বিভিন্ন নাম থাকলেও গানের কথা ও সুরের মাঝে প্রেম ও ভাবের প্রকাশ পায়।

ভাওয়াইয়া গানের মাঝে মূলত নর-নারীর মনের প্রেম-প্রণয়, বিরহ-মিলন, সুখ-দুঃখ, আশা-আকাঙ্ক্ষা ও সমাজের বাস্তব চিত্রই প্রকাশ পায়।

উত্তরবঙ্গের ঐতিহাসিক এই সংস্কৃতি কেমন আছে আজ? বিভিন্নজন বিভিন্ন কিছু ভাবলেও এই গ্রামীণ সাংস্কৃতির ঐতিহ্যকে বাঁচাতে, ও মানুষের মনকে আনন্দ বিনোদনের মাঝে ডুবিয়ে রাখতে এক ব্যতিক্রমি উদ্যোগ নিয়েছে শিল্পী কল্যান চন্দ্র শীল।

বিনোদনের স্বার্থে মানুষের মনের খোরাক যোগাতে “kallaner gan” “কল্যাণের গান” নামক একটি ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে রংপুরের আঞ্চলিক ভাষায় প্রতিমুহূর্তেই ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালি, পল্লীগীতি, রঙ্গরস সহ হারানো দিনের সব ধরনের গান ও বিনোদনমুলক সব অনুষ্ঠান আপলোড করে হাজারো দর্শক শ্রোতার হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে চ্যানেলটি।

কে এই “কল্যান চন্দ্র শীল”?

লালমনিরহাট জেলায় কালীগঞ্জ উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের এক দরিদ্র পরিবারে ১৯৮০ সালে ১লা ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহন করেন। তার পিতা রংপুর বেতারের বিশিষ্ট পালাগান শিল্পী কনক কুমার শীল, মাতার নাম জোস্না রানী শীল, তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়। পিতা-মাতা শিল্পী হওয়ার সুবাধে ছোটবেলা থেকেই তিনি সঙ্গীত পাগল হয়ে উঠেন।

লেখাপড়ার চাইতে সঙ্গীতকে বেশি ভালোবাসার কারনেই ছোটবেলা থেকেই তিনি ছড়া, কবিতা, ছোটগল্প, ভাওয়াইয়া, পল্লীগীতি, ভক্তিমূলক ও দেশাত্মবোধক গান রচনা করে আসছেন। তারই ধারাবাহিকতায় ১লা সেপ্টেম্বর ২০১৫ইং সালে তিনি ভাওয়াইয়া গানের জন্য বাংলাদেশ বেতার কর্তৃক গীতিকার হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।

তার রচনায় একক কাব্য গ্রন্থ ” কলম” প্রেয়সী তুমি” “প্রতি বর্ণে গড়া, ছন্দে ছন্দে ছড়া” প্রকাশিত হয়েছে।
তার সম্পাদনায় ত্রৈমাসিক “বিন্দু থেকে সিন্ধু” ও ত্রৈমাসিক “নবারুণ (অরুণ) নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি তিনি লোকসংগীত শিক্ষার জন্য শিল্পীলয় গুরুগৃহ সংগীত নিকেতন নামে একটি পাঠশালা স্থাপন করেছেন। সেখানে প্রায় ৪০জন ছাত্র-ছাত্রীকে সম্পূর্ণ বিনা বেতনে লুপ্তপ্রায় লোকসংগীত শিক্ষা দেওয়া হয়।

একান্ত আলাপচারিতায় এ প্রতিবেদক কে তিনি জানান যে, লোকসংগীত হলো বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্য। রংপুর অঞ্চলের চাষী, গাড়িয়াঁল, শ্রমিক, নারী, মাঝিঁ-মাল্লাদের প্রাণের গান, মাটির টানের গান ভাওয়াইয়া যা এখন বিলুপ্তির পথে।

ঐতিহ্যবাহী এ সংস্কৃতিকে বাচাঁতে তিনি বদ্ধপরিকর, লোক সঙ্গীতকে মানুষের হৃদয়ে ভরে দিতে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। নতুন নতুন গান সৃষ্টিতে তাকে নানাবিধ বেগ পেতে হচ্ছে, অর্থাভাবে উন্নত ভিডিও ক্যামেরা, মানসম্মত রেকর্ডিং ষ্টুডিও স্থাপন, অত্যাধুনিক সঙ্গীত সরঞ্জাম যন্ত্র ক্রয় করা, গানের সাথে মিল রেখে বিভিন্ন ড্রেস, যানবাহন, ইত্যাদি সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছেনা।

তিনি আরো বলেন যে, বাংলার এ চিরাচরিত গ্রামীণ লোকসংগীত ভাওয়াইয়া ও রংপুরের আঞ্চলিক গানকে বাচিঁয়ে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে সরকারের আন্তরিক উদ্যোগ দরকার।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারি/বেসরকারি কোন ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন কেউ যদি আন্তরিক হয়ে তাকে সাহায্যে করে তাহলে, গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী এ লোকসংগীতকে বাচাঁতে ও প্রতিষ্ঠা করতে তিনি তার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অবিরত চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।

সুস্থ্য বিনোদনের জন্য তিনি তার নির্মিত “কল্যানের গান” kallaner gan ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে সকলকে পাশে থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *