Main Menu

কালের বিবর্তণে বিলুপ্তির পথে গরু দিয়ে নয় মানুষ দিয়ে হাল চাষ

রায়হান চৌধুরী, কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আগের মত এখন আর লাঙ্গল দিয়ে গরু টানা হাল চাষ দেখা যায় না। এক সময় বাণিজ্যিকভাবে কৃষক গরু পালন করতো হাল চাষ করার জন্য। কিছু মানুষ গবাদি পশু হাল চাষকে পেশা হিসাবে নিত। নিজের সামান্য জমি টুকুর পাশাপাশি অন্যের জমিতে হাল চাষ করে তাদের সংসারের ব্যয় নির্বাহ করত। গরু দিয়ে হাল চাষে সময় লাগলেও মালিকরা অপেক্ষা করে হলেও হাল চাষের ব্যবস্থা করত। হালের গরু কিনে দারিদ্র মানুষ জমি চাষ করেই তাদের পরিবারে সচ্ছলতা ফিরে পেত।

উপজেলার শিদলাই ইউনিয়নের পূর্ব পাড়ার কৃষক জাকির মিয়া বলেন, ছোটবেলা হাল চাষের কাজ করতাম। বাড়িতে হাল চাষের বলদ গরু ছিল ৩ জোড়া। চাষের জন্য দরকার হতো বলদ ২ জোড়া, কাঠ লোহার তৈরি লাঙ্গল, জোয়াল, মই, লরি (বাশের তৈরি গরু তাড়ানোর লাঠি), গরুর মুখে টোনা এই লাগতো আমাদের। আগে গরু দিয়ে হাল চাষ করলে জমিতে ঘাস কম হতো। অনেক সময় গরুর গোবর জমিতে পড়ত, এতে করে জমিতে অনেক জৈব্য সার হতো ক্ষেতে ফলন ভালো হত। গরু দিয়ে হাল চাষ করে ছেলে মেয়ের লেখাপড়া ও সংসার মোটামুটি ভালই চলতো। এখন নতুন নতুন মেশিন হয়েছে, মেশিন দিয়ে এখানকার লোকজন চাষাবাদ করে। আমাদের তো এত বেশি টাকা নাই মেশিন কিনে জমি চাষ করার, তাই এখন সংসার চালাতে অনেক কষ্ট হচ্ছে।

বাবার সাথে জমি চাষ করতে আসা শিদলাই আশরাফ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেনির শিক্ষার্থী রুবেল বলেন, প্রতিদিন সকালে স্কুলে যাই, স্কুল থেকে আসার পর বাবার সাথে নেমে পড়ি হাল চাষ করার জন্য। বাবার স্বপ্ন আমি লেখাপড়া করে সেনা বাহিনীতে চাকরি করি । তাই বাবাকে সহোযোগীতা করলে সংসারের অভাব একটু কম হবে ও স্কুলের বেতন ঠিকমত দিতে পারবো। আমি লেখাপড়া করে বাবার স্বপ্ন পূরন করতে পারবো। তাই কাজের পাশাপাশি লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছি।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *