Main Menu

কঠোরতার পরেও বন্ধ হচ্ছে না মাদক ব্যবসা

যশোর জেলা প্রতিনিধি: বাংলাদেশ সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করলেও থেমে নেই এ ব্যবসা ও সেবন। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ও পুলিশ বিভাগকে এর বিরুদ্ধে কঠোর ভূকিকা নিতেও দেখা যাচ্ছে, কিন্তু তারপরও কেন এ অবস্থা তা ভাববার বিষয়। এ দেশে সাধারণত মদ, গাঁজা, আফিম, ভাঙ, ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ আরো কিছু মাদকদ্রব্যের ব্যবহার দেখা যায়। এখন ইয়াবার কারবার রমরমা। এ সব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ধরছে, ধ্বংস করছে, বহনকারী বা মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে। আইনবহির্ভূত হত্যার ঘটনাও ঘটেছে, যাকে কর্তৃপক্ষ বলেছে মাদকের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে এ সব ঘটনা ঘটে। তবু মাদকের স্রোত থামছে না।

মাদক নিয়ে দৈনিক নবচিত্রে একদিনের সংখ্যায় চারটি খবর প্রকাশিত হয়েছে। ৯ জানুয়ারির সংখ্যায় প্রকাশিত খবরগুলো হলো, যশোরে ইয়াবাসহ বেনাপোলের রবি আটক, যশোরে ইয়াবা ও গাঁজাসহ স্বামী-স্ত্রী ও আরো ছয়জন আটক, বেনাপোলে ইয়াবাসহ তিনজন আটক এবং কালীগঞ্জে মাদক  সম্রাজ্ঞী লাভলীসহ দুজন আটক। যশোরে আটককৃতদের মধ্যে চাঁচড়া চেকপোস্ট থেকে আটক করা হয় শার্শার ভবেরবেড় গ্রামের রবিউল ইসলাম রবি ও শার্শা বাজারের শাহাবুল ইসলামকে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় দু’হাজার পিস ইয়াবা এবং তার সহযোগী শাহাবুলের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ইয়াবা বিক্রির দু’লাখ ৭৬ হাজার টাকা। যশোরে আটক স্বামী-স্ত্রীসহ ছয়জনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় দু’হাজার ১০০ পিস ইয়াবাসহ ১০০ গ্রাম গাঁজা। কালীগঞ্জের লাভলীর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এক হাজার পিস ইয়াবা। সে ২৩ মাদক মামলার আসামি। প্রকাশিত খবরটিতে মাদক উদ্ধারের আরো বিস্তারিত বিবরণ আছে।

আমরা মনে করি, অহেতুক চুনোপুঁটির পেছনে দৌড়িয়ে মাদক দমনের কাক্সিক্ষত সফলতা পাওয়া যাবে না, যতক্ষণ না এর হোতাদের দমন না করা যাবে। যারা দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে, মানুষের অকল্যাণে মাদকের ব্যবসা করেও সমাজের মধ্যমণি হয়ে বসে আছে তাদের কালোহাত আগে ভাঙতে হবে। বরাহ পালকদের দেখা যায়, যখন তাদের বরাহপাল ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যায় তখন পালকরা দাঁতালের পিঠে সজোরে আঘাত করে। এতে ওই দাঁতাল যেই না গুটিয়ে আসে সেই পালের অন্য বরাহরাও নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

সেইরূপ মাদক ব্যবসার পালের গোদার পিঠে বাড়ি পড়লে চুনোপুঁটি মাদকাসক্ত বা ব্যবসায়ীদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাবে না। যদি পালের গোদারা নির্বিঘ্ন থাকে তা হলে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও মাদক তৃণমূলে চলে আসবে। মাদকসেবীরাতো হিতাহিত জ্ঞানশূন্য মানুষ নামের অদ্ভুত প্রাণি। তারা মাদক ব্যবহার করে ধরা পড়লে তাদের জীবন শেষ এ কথাটি তাদের মাথায় থাকে না। এ ক্ষেত্রে আমাদের কথা হলো মাদকের শীর্ষের শক্তিকে আগে প্রতিহত করা হোক।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *