Main Menu

জুমাতুল বিদা ও ঐতিহাসিক আল-কুদস দিবসঃ

নদীর স্রোত ও সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না,সময় নিজের গতিতে চলে, ঘড়ির কাটা টক টক যেমন সামনে আসে আবার চলে যায়,তেমনি ভাবে মানুষের জীবনে অনেক কিছু আসে, আবার চলে যায়, যেমন গভীর রাতে যেমন করে অন্ধকার আসে, তেমনি আসতে আসতে অন্ধকার আসে আবার চলে গিয়ে আলো আসে।মানে আমাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে কিছু না কিছু বিদায় দিতে হয়।প্রতিটি বিদায়ে কিছু না কিছু শিখার ক্ষেত্র রয়েছে।

বিদায় শব্দটা হয়তো অনেক ছোট, কিন্তু এই বিদায় দিতে অত্যন্ত করুন,এই ছোট শব্দটার মধ্যে রয়েছে কত হাহাকার, বেদনা,কষ্ট ইত্যাদি।আগামী কাল হচ্ছে বিশ্ব মুসলিম জাহানের জন্য একটা করোনা ময় দিন,অর্থাৎ জুমাতুল বিদা।জুমাতুল বিদা শব্দটা আরবী শব্দ,যার বাংলায় সরল অর্থ হচ্ছে রমজানের শেষ জুমা,রমজানের বিদায়ী জুমা,জুমাতুল বিদার শাব্দিক অর্থ সমাপনী সম্মিলন। সিয়াম সাধনার মাস রমজানের শেষ শুক্রবারকে ‘জুমাতুল বিদা’ বলে।এই জুমাকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা এমনি সব আকিদ্বার মানুষ এটা অত্যন্ত গুরুত্বসহ কারে আদায় করে থাকেন বিভিন্ন ইবাদতের মাধ্যমে।দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার মধ্যে এই দিন টা একটা গুরুত্বপূর্ণ দিন। আর এই জুমাতুল বিদার দিন টি হচ্ছে মুসলমানদের ঐক্য দিন, সংগ্রামের, আন্দোলনের, অধিকার আদায়ের দিন। কেননা এই দিন হচ্ছে

ঐতিহাসিক আল-কুদস দিবস। মুসলমানদের প্রথম কেবলা পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাসকে দখলমুক্ত করার আন্দোলনের প্রতীকী দিন। বায়তুল মুকাদ্দাস বছরের পর বছর ধরে সন্ত্রাসী, জঙ্গীবাদ ইহুদিদের দখলে রয়েছে। ফিলিস্তিনের মূল অধিবাসীদের অধিকাংশকে বিতাড়িত করে ১৯৪৮ সালের ১৫ মে ইহুদিরা সেখানে অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল প্রতিষ্ঠা করে। ১৯৬৭ সালে ইসরাইল বায়তুল মুকাদ্দাস দখল করে। এরপর থেকে বায়তুল মুকাদ্দাসকে দখলমুক্ত করার জন্য সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে আল-কুদস দিবস পালিত হয়ে আসছে। পবিত্র রমজান মাসের শেষ জুমার দিনকে আল-কুদস দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

আল-কুদস দিবস বা আন্তর্জাতিক আল-কুদস দিবস ইমাম খোমেনী (রহ.) এর আহবানে ১৯৭৯ সালে ইরানে প্রথম শুরু হয়েছিল। এ দিবস পালনের উদ্দেশ্য হলো ফিলিস্তিনি জনগণের সাথে একাত্মতা প্রকাশ, জায়নবাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ এবং ইসরাইল কর্তৃক জেরুযালেম দখলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ। জেরুযালেম শহরের অপর নাম ‘কুদস’ বা ‘আল-কুদস’।

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইবরাহীম ইয়াজদি সর্বপ্রথম আল-কুদস দিবস র‌্যালি আয়োজনের ধারণা দেন। তারপর আয়াতুল্লাহ খোমেইনী ১৯৭৯ সালে ইরানে এর প্রবর্তন করেন। এর পর থেকে ইরানসহ আরও বিভিন্নদেশে প্রতি বছর আল-কুদস দিবসটি গুরুত্বের সাথে উৎযাপিত হযে আসছে।

আসুন জুমাতুল বিদার দিনে আমরা মুসলিম মিল্লাত ঐক্য হয়ে, কাদে কাদ মিলিয়ে ইসলামি শিক্ষা, সংস্কৃতির, ধর্ম কে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরি,নির্যাতন নিপিড়ন থেকে নিজে কে রক্ষা করে, নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করি।

অবশেষে মহান আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করি,প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উঠিলায় বিশ্ব মুসলমানের জান,মাল,ইজ্জত ও করোনা মহামারী থেকে সবাই রক্ষা করুক।আমিন।

লেখকঃ মুহাম্মদ জয়নুল আবেদীন, সংগঠক সামাজ ও মানবাধিকার কর্মী(চট্টগ্রাম)






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *