Main Menu

করোনায় ছুটি নেই পুলিশের

করোনাভাইরাস মহামারি প্রতিরোধে শুরু থেকে মাঠে রয়েছে পুলিশ। দুই মাস ধরে কোনও ছুটি পাচ্ছেন না পুলিশ সদস্যরা। পরিবার নিয়ে যারা কর্মস্থলে থাকেন তাদের অনেকের পরিবারের সঙ্গে দেখা হয় সপ্তাহে-মাসে একবার। কারণ পরিবারকে ঝুঁকিমুক্ত রাখা। অপরদিকে, করোনাভাইরাস আক্রান্ত অনেক পুলিশ সদস্য সুস্থ হয়েই কাজে ফেরার অপেক্ষায়। অসুস্থতা থেকে ফিরে কাজে যোগদান নিয়ে তাদের মধ্যে কোনও অভিযোগ বা অনুযোগও নেই। তবে মানুষের অসচেতনতায় হতাশ তারা। যাদের জন্য তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাইরে থাকছেন তারাই ঘরে থাকছে না বলে আক্ষেপ করেছেন অনেকে

গতকাল মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে রাজধানীর টেকনিক্যালের ট্রাফিক সিগন্যালে কথা হয় শহীদ নামে এক ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে কথা হয়। দায়িত্ব পালন করে বাসায় যাওয়ার আগে টেকনিক্যালে কর্তব্যরত তার সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি। কনস্টেবল শহীদ বলেন ‘আমরা কর্তব্য পালন করে যাচ্ছি। কিন্তু এই কর্তব্য পালন যদি মানুষের কাজে না আসে, তা খুবই দুঃখজনক। মানুষ কেন এই মহামারির মধ্যেও এভাবে বাড়ি যাচ্ছে? কম খেয়ে হলেও যার যার অবস্থানে থাকা উচিৎ। এভাবে ছোটাছুটি করলে কেউ নিরাপদ থাকবে না।’মানুষের এভাবে বাড়ি ফেরার দৃশ্য দেখে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ছুটি পাওয়া না, পাওয়া কোনও বিষয় না, যাদের জন্য আমরা রাত দিন বাইরে তারাতো ঘরে থাকছে না।।’

মঙ্গলবার পর্যন্ত পুলিশের ২৭৪৯ জন বিভিন্ন পদের পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ৯ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৩০ জন। ডিএমপির ট্রাফিক পশ্চিম বিভাগের কনস্টেবল মোহাম্মদ আইয়ুব গত ২০ এপ্রিল করোনা পজিটিভ হন। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তীব্র শ্বাসকষ্ট হলে তাকে আইসিইউতেও রাখা হয়। দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর সুস্থ হয়ে গত ১০ মে বাসায় ফিরেন। বর্তমানে তিনি বিশ্রামে রয়েছেন। দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ সদস্যরা কনস্টেবল আইয়ুব বলেন, ‘সুস্থ হয়েছি, কিন্তু শরীর দুর্বল। অনেক আতঙ্কে ছিলাম। এই অসুখের যন্ত্রণা যে কী তা আক্রান্ত না হলে কেউ বুঝবে না। আমি সুস্থ হলেও মনের ভেতরে ভয় কাজ করে। কিভাবে আক্রান্ত হলাম নিজেও বুঝে উঠতে পারিনি।’

কাজে যোগদানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সবসময় গণভবন এলাকায় দায়িত্ব পালন করতাম। কাজে যোগ দিতে মন চায়। তবে সিনিয়র অফিসাররা বলেছেন কয়েকদিন বিশ্রাম নিতে। এরপর প্রয়োজন হলে তারা জানাবেন। চাকরি করি পুলিশে, আমাদের ঘরে বসে থাকার সুযোগ নেই।’ মানুষকে ঘরে রাখতে পুলিশের কোনও অনুরোধই কাজে আসছে না। কেউ কোনও অনুরোধ মানছে না উল্লেখ করে কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম জামান জানান, মানুষকে যতোভাবে বুঝাই না কেন তারা অজুহাত দাঁড় করায়! কোনওকিছুই কাজ আসে না।’তিনি বলেন,‘সাধারণ মানুষের জন্য আমরা ঝুঁকি নেই তাই তাদের এ বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিৎ।’

করোনাভাইরাস আক্রান্ত থেকে সুস্থ হয়ে কাজে যোগদানের অপেক্ষায় ডিএমপির কল্যান ও ফোর্স বিভাগের কনস্টেবল রাজীব সাহা। তিনি বলেন, ‘পুলিশে কাজ করি, সবকিছুর মধ্য দিয়েই আমাদের যেতে হয়। আমাদের ঘরে থাকার সুযোগ নেই। পরিবার থেকে আমাকে কাজে যোগদানের বিষয়ে কিছুটা বাধা দিতে চায়, তবে তাদের আমি বুঝিয়েছি ভয় পেলে পুলিশের চাকরি করা যাবে না। যেকোনও পরিবেশে আমাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।’ দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ সদস্যরা করোনামুক্ত হওয়া পুলিশ সদস্যদের বাধ্যতামূলক ছুটিতে রাখা হচ্ছে। তারা পরিপূর্ণভাবে শারীরিক ও মানসিকভাবে দায়িত্ব পালনের প্রস্তুত হলেই কেবল তাদের যোগদান করতে বলা হবে। অনেকে যোগদানের জন্য প্রস্তুত।

তবে পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের আরও সময় দিতে চান। তবে সুস্থ পুলিশ সদস্যরা ছুটি পাচ্ছেন না। রোটেশনে তারা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। পুলিশ সদর দফতরের জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার এআইজি সোহেল রানা বলেন, ‘করোনার কারণে পুলিশ সদস্যদের ছুটি কাটানোর সুযোগ মিলছে না। মানুষের সেবায় পুলিশ সদস্যরা নিজেদের নিয়োজিত রেখেছে। অনেকেই পরিবারের সঙ্গেও দেখা করতে পারছে না

দেশ ও নাগরিকদের জন্য স্যাক্রিফাইস করছেন পুলিশ সদস্যরা। আমরা চাই নাগরিকদের নিরাপদে রাখতে।’ প্রসঙ্গত, দেশে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ২৫ হাজার ১২১ জন। করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৩৭০ জনের। এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন চার হাজার ৯৯৩ জন।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *