Main Menu

কবিতা

অদৃশ্য আকর্ষণ

লেখাঃ মেহেদী হাসান মুসা

হাপানির টানে কাতর প্রাণের দুটো চোখ সেদিন নির্ঘুম ছিল না।
ছিল ঘুম টলমল নির্ঘুম অতিরিক্ত আরো দুটো চোখ।

আমি ইনিয়ে বিনিয়ে কথা বলতে পারি না।
শিয়রের পাশে জ্বলন্ত সে অস্থির প্রদিপটি সব জানে।
সে প্রদিপের কেরোসিন আর সরষের তেলে ভাজা রসুনের রস ওরা কাঠগড়ার যোগ্য।
ওরা সব জানে।
ওরা নরম হাতের গরম পরশে আমার বুকে লুটিয়ে পড়েছিল যে!

আমি তো তখনো অব্দি মরিনি।
ব্যাধের হাতে প্রাণের ভ্রমর যখন ছটফট করছিল।
ঠিক সেই মুহুর্তে একের পর এক তীর বর্ষন করে যাচ্ছিল একটি ধনুক রাঙা বিরামহীন কন্ঠ।
সে ধনুক যেন আরশ কাঁপানো বর যোগে আবির্ভূত।

যেন প্রলয়ের এক মহা সূচনা স্তব্ধ ভূমিকে বিদীর্ণ করে যাচ্ছিল অনবরত।
দেবতা যেন লাজে মুখ লুকিয়ে নির্নিমেষ চোখে চেয়ে আছে।

কালের অন্তে যমের অজান্তে যখন বোধ এলো এ প্রাণে,
কত সে হরষের বর্ষনে পুলকিত হল সে অদ্বিতীয় প্রাণ,
তা এই এক অভাগাই জানে।

আর সে ধনুক রাঙা অস্থির কন্ঠ,
কোমল দুটো হাত,
অশ্রুসজল দুটো চোখ,
পুলকিত সে হৃদয়,
ওরা যে আর কারো নয়!
এ পৃথ্বীর আজন্মকালের মায়ের।

বিঃদ্রঃ মাকে উৎসর্গ করে।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *